বেলকুচিতে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকালে বেলকুচি প্রেসক্লাবে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বেলকুচি উপজেলা শাখার মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বেলকুচি উপজেলা খেলাফত যুব মজলিসের উপদেষ্টা মাওঃ হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওঃ আব্দুস সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবু ইউসুফ, প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, বাইতুল মাল সম্পাদক আবু মুসা, আরিফুল ইসলাম, রাসেলসহ বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস সম্পুর্ন ইসলামী চিন্তায় ধারায় বিশ্বাসী। পূর্ণাঙ্গ জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সংগঠন তার কর্মসূচি পালন করেছ৷ আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনটি হলের প্রবেশপথে পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকার ওপর হেঁটে প্রতিবাদ জানিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল ও বিজয় একাত্তর হলে এবং গতকাল রোববার রাতে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ প্রতিবাদ জানান তাঁরা। যার ছবি ও ভিডিও করে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা কিছু গণমাধ্যমের হাতে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়- প্রতীকী ওই পতাকায় লেখা রয়েছে, ‘নো কম্প্রোমাইজ উইথ রাজাকার।’ এর আগে গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনের মাটিতেও পাকিস্তানের পতাকা লাগিয়ে সেটির ওপর পায়ে হাঁটতে দেখা যায়। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ দৃশ্য ভাইরাল হয়। যা নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। তবে পরে সেই পতাকা আর দেখা যায়নি।
জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশপথের মেঝেতে পতাকা লাগিয়ে তার ওপর হেঁটে যাওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে জানায়, ‘মহান বিজয় দিবসের এই মাসে আমাদের আজকের উদ্যোগ হলো সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার এক প্রকাশ, যাঁদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। একই সঙ্গে আমরা ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাই সেই পাক-হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের প্রতি, যারা আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।’
ওই শিক্ষার্থী আরও জানায়, ‘এই প্রতিবাদ, এই ক্ষোভ- সবই আমাদের ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবতার প্রতি অঙ্গীকার থেকে উৎসারিত। আশা করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের এই উচ্চারণ স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার বার্তা দেবে।’
অবশ্য বিতর্কিত এমন কাজের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে কিছু শিক্ষার্থীরা। তারা বলেম, প্রতিটি দেশের প্রতাকা তাদের জন্য সম্মানের। তাছাড়া পাকিস্তান কখনোই আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়ায় নি। বরং আমাদেরকে নানাভাবে শোষণ করছে ভারত। আমাদের মতে পাকিস্তানের পতাকা এভাবে পদদলিত করে কথিত প্রতিবাদ জানানো নেহাতই বাড়াবাড়ি।
দেশের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়েছি; এ সত্য স্বীকার না করলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তাঁরা। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ ও ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশ ও উপস্থাপন উপলক্ষে এ সেমিনার আয়োজন করে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কয়েক বছর আগেও আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, এখন তা ৭ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। সমস্যাটি কোথায়, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত কমার একটি বড় কারণ হলো, জিডিপির সব খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এনবিআর দুই ভাগ হয়ে দুজন সচিবের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে বলে জানান আবদুর রহমান খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ডিপোজিট গ্যারান্টি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকসহ ৭৬ লাখ পরিবার আমানত ফেরত পাবেন বলে জনান গভর্নর। এ ছাড়া নতুন ব্যাংকটি প্রথম বা দ্বিতীয় বছরেই মুনাফার মুখ দেখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের ফাঁদে পড়া আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে না। তখন ঋণ নিয়ে আবার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে রাজস্ব বাজেটে ব্যয়ের প্রধান খাতের মধ্যে ছিল সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন। এরপর দ্বিতীয় স্থানে ছিল কৃষি ও শিক্ষা। কিন্তু কৃষি ও শিক্ষার মতো খাত পেছনে ফেলে এখন জায়গা এখন নিয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০০ আসনে বিজয়ী হলেও তার দল দেশের স্বার্থে, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সরকার গঠন করবে।
আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ইইউর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, সব মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী ইশতেহার ও নির্বাচন পরবর্তী ১০০ দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, জামায়াত নির্বাচিত হলে একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বাংলাদেশ গড়বে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলকেই বাদ দেব না। আমরা দেশের স্বার্থে দারুণভাবে অনুভব করি যে, অন্তত আগামী পাঁচটা বছর দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন কায়েম করা এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য আমাদের একটি জাতীয় সরকার প্রয়োজন। আমরা নির্বাচিত হলে সেই সরকারটাই গঠন করব।’
‘২০০ আসনেও আমরা বিজয়ী হয়ে যাই, তারপরেও আমরা এটি করব ইনশাআল্লাহ’, আরও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় সরকারে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের জন্য দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘নাম্বার ওয়ান- কেউ নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেবেন না। নাম্বার টু—সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মিনিমাম এই দুইটা জিনিসের ব্যাপারে যারা একমত হবেন, তাদের নিয়ে আমরা সরকার গঠন করতে আগ্রহী।’
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট (রেফারেন্ডাম) একই দিনে অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইইউর প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ততটা এখনও সচেতন না। তাই একই দিনে দুটি নির্বাচন হলে দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নওভার) কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে আমরা বলেছি, দুটি নির্বাচন আলাদা হওয়া উচিত।’
নির্বাচন পেছানো প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা ইলেকশন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া দরকার।’
পিআর বা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পিআর আমাদের দাবি। আমরা এটা জনগণের জন্য করেছি, দলের জন্য নয়। এমনকি আমরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাই, তখনও পিআর বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দেব। জেতার পর পিআর-এর দরকার নেই- অতীতের এই কালচার আমরা পাল্টে দিতে চাই।’
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মকে কখনও ব্যবহার করি নাই, করব না। ধর্ম আমাদের চিন্তার অঙ্গ, কলিজার অংশ। ধর্ম নিয়ে কাজ করি, ব্যবহার করি না; কারা করে সেটা আপনারা ভালো বোঝেন। যারা ইলেকশনের সময় টুপি পরেন, তসবিহ হাতে ঘোরেন- তারা হয়তো করেন। আমরা তসবিহ মুখে নিয়ে ঘুরি না, তসবিহ বুকে নিয়ে ঘুরি।’
আপনার মতামত লিখুন