রাজারহাটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জটিলতার অবসান: কর্মস্থলে যোগ দিলেন আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির অবশেষে স্থায়ী অবসান ঘটেছে। মাদ্রাসার সুপার জনাব আবুল হোসেন, অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী এবং অফিস সহকারী খন্দকার আরিফুল ইসলামের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হয়।
এতে মাদ্রাসায় ফির এসেছে শিক্ষার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
ঘটনার পটভূমি ও দীর্ঘ আইনি পথচলা উপজেলার খুলিয়াতারী গ্রামের খন্দকার আরিফুল ইসলাম পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত বিষয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আরিফুল ইসলামের দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭টি বছর কেটে যাওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং সম্প্রতি মাদ্রাসা কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সুপার জনাব আবুল হোসেন সহ শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অফিস সহকারী হিসেবে খন্দকার আরিফুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রাকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয় এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুগম করার সিদ্ধান্ত হয়।মাদ্রাসার একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।
মাদ্রাসার সুপার জনাব আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কিছু না কিছু সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। খন্দকার আরিফুল ইসলামের যোগদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজে গতি আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”
নবাগত পদে দায়িত্ব নিশ্চিত হওয়া খন্দকার আরিফুল ইসলাম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ধৈর্য ও আইনি প্রক্রিয়ার পর বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ইং সকালে সহকর্মীদের সাথে বসে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পেরে আমি আনন্দিত। মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে আমি সুপার মহোদয় ও সকল শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন উদ্দ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রতিষ্ঠানটি আগামীতে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা প্রসারে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে#




আপনার মতামত লিখুন