২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
আজ হারলেই বিদায়। জিতলে এশিয়া কাপে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে খেলার সুযোগ। এমন কঠিন সমীকরণের অঘোষিত ‘সেমিফাইনাল’ ম্যাচে ১২০ বলে ১৩৬ রান তাড়া করতে নেমে বেশ বেকায়দায় বাংলাদেশ।
৫.১ ওভারে ২৯ রানে প্রথম সারির ৩ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। শূন্য রানে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৫ রানে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের শুরু থেকে দারুণ ব্যাটিং করে যাওয়া সাইফ হাসান ফেরেন ১৫ বলে মাত্র ১৮ রান করে।
আজ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তান শিবিরে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন বাংলাদেশ দলের গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ। তার করা ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন পাকিস্তানের ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। তিনি চার বলে মাত্র ৪ রানে ফেরেন।
এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে পাকিস্তান শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন শেখ মেহেদী হাসান। তিনি ওভারের চতুর্থ বলে সাইম আইয়ুবকে সাজঘরে ফেরান। তার বিদায়ে ১.৪ ওভারে ৫ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
প্রথম দুই ওভারে ২ উইকেট পতনের কারণে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২৭ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
৬.৩ ওভারে দলীয় ২৯ রানে ফেরেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর জামান। তিনি রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন। তার আগে ২০ বলে মাত্র ১৩ রান করার সুযোগ পান পাকিস্তানের এই ওপেনার।
এরপর নবম ওভারে বোলিংয়ে এসেই পাকিস্তানের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান হুসাইন তালাতকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। তার বলে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে দলীয় ৩৩ রানে ফেরেন। তালাত ৭ বলে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি।
১০.৫ ওভারে দলীয় ৪৯ রানে ফেরেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আগা সালমান। তিনি ২৩ বলে মাত্র ২০ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন।
ইনিংসের শুরু থেকে ব্যাটসম্যানদের এমন আসা-যাওয়ার মিছিলের কারণে ১১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৫১ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তবে শেষ ৯ ওভারে পাকিস্তান ৩ উইকেট হারালেও করে ৮৪ রান করে পাকিস্তান।
১২তম ওভারে তিনবার লাইফপান শাহিন শাহ আফ্রিদি। রিশাদ হোসেনের করা ওভারের প্রথম বলে এক্সট্রা কাভারে শাহিন আফ্রিদির সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। পরের বলে পাকিস্তান ব্যাটসম্যান বেঁচেযান আম্পায়ার্স কলের কারণে। আর পঞ্চম বলে আকাশে তুলেও মেহেদী হাসান ক্যাচ মিস করায় বেঁচে যান আফ্রিদি। ১ রানে প্রথম দুবার বেঁচে যাওয়া আফ্রিদি তৃতীয়বার বেঁচেছেন ২ রানে। ১৩.৩ ওভারে দলীয় ৭১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফেরান তাসকিন আহমেদ।
এরপর মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নওয়াজ ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর মোটাতাজা করেন। তাদের কারণেই ১৩৫ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।
দলের হয়ে ২৩ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন হারিস। মাত্র ১৫ বলে এক চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন নওয়াজ। ১৩ বলে ১৯ রান করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ২৩ বলে ১৯ রান করেন অধিনায়ক সালমান।
বাংলাদেশ দলের হয়ে ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। এদিন তিনি টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৪ ওভারে ১৮ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ২৮ রানে ২ উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান।




আপনার মতামত লিখুন