রাজধানীর কারওয়ানবাজারে মোবাইল ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দফা দাবি আদায়ে কারওয়ান বাজার মোড়ে রবিবার (৪ জানুয়ারি) জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়ান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে থেমে থেমে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা ও র্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোট সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে সকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ জলকামান ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আন্দোলনকারীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটি পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে সাম্প্রতিক বদলি ও নিয়োগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দিয়েই সচিবালয় সাজানো হচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। সম্প্রতি এই পদায়ন নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত আইনজীবীরা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিতর্কিত শেখ আশফাকুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রুহুল আমিন। এই দুই কর্মকর্তার অতীতের বিতর্কিত ভূমিকা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।
২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তখন ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখব আমরা অম্লান’ স্লোগানে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। দেশের অন্য কোথাও বিচারকদের এমন সমাবেশ দেখা না গেলেও চট্টগ্রামে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ওই সমাবেশে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
দেশের ইতিহাসে বিচারকদের আচরণবিধি উপেক্ষা করে এ ধরনের সমাবেশে অংশ নিয়ে দলীয় আনুগত্য পোষণকারী এই বিচারক পরে আরও ভালো ভালো পেস্টিং ও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। অথচ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন সে ব্যক্তিকেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয়ের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিচারকরা। সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিচারক গণমাধ্যমে বলেন, বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন সুবিধাভোগী। বিচার বিভাগে ফ্যাসিজম কায়েমের দায়ে তার শাস্তি হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেটা না হয়ে তিনি পুরস্কৃত হচ্ছেন।
শুরুতেই যদি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়, তাহলে স্বাধীন সচিবালয় হবে কীভাবে- এমন প্রশ্ন রেখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান গণমাধ্যমে বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাস্তবায়ন জরুরি। বিগত সময়ের বিচার বিভাগের নতজানু অবস্থা এবং রাজনৈতিক ফরমায়েশি রায়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্তির জন্যই আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি ছিল। কিন্তু পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় প্রথম পদায়নেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের সেখানে পদায়ন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের অনেকেই এই নিয়োগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এই নিয়োগের ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অন্য এক প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবির, উপসচিব হিসেবে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুল ইসলাম ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সুব্রত ঘোষ শুভ, সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে মহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় আদালত প্রাঙ্গণে। এরমধ্যে বেশি সমালোচনা চলছে সচিব নিয়োগ নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বিচারকরা রাজপথে সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশের নেতৃত্ব দেন বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন বিচারকরা। নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সামনের সড়কে ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখব আমরা অম্লান’ স্লোগানে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন করেন তারা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যান।
সমাবেশে বক্তৃতায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বলেন, বিচারক হলেও আমরা মানুষ। তাই আজ হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, যখন জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে দেশে একটা ন্যক্কারজনক উদ্যোগ ও তার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আমরা। যেটা আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একটি মৌলবাদী গ্রুপ। এ ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপ পৃথিবীর যে দেশেই কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তারা শুধু দেশের নয় ইসলামের ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি। তারা জানে না, তাদের জানা কত কম। ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য, যেখানেই তা গেছে প্রচারের জন্য সেখানকার কৃষ্টি সংস্কৃতিকে ধারণ করে নিয়েছে। কিন্তু এখন কিছু মৌলবাদী গ্রুপ বুঝতেই চাইছে না। ইসলাম প্রচারিত ও প্রসারিত হয়েছে সৌন্দর্যের মধ্যে। কূপমণ্ডূক কিছু মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে ইসলামের।’
জানা গেছে, বিতর্কিত শেখ আশফাকুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার পিতার নাম অ্যাডভোকেট দেলদার রহমান। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে দুবারের জন্য সভাপতি হয়েছিলেন। কট্টর আওয়ামী পরিবারের সদস্য আশফাকুর রহমান বিচার বিভাগে আওয়ামী তন্ত্র চালিয়েছে ব্যাপকভাবে। শুধু প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণই নয়, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সুবিধাভোগীদের অন্যতম একজন। আওয়ামী লীগ আমলে আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ, সিলেট মহানগর দায়রা জজসহ গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ছিল বিচারক আশফাকুর রহমানের পোস্টিং।
এখানেই শেষ নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাত্র তিন মাস আগে ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পক্ষে জুডিসিয়াল ক্যু করার চেষ্টাকারী সাবেক প্রধান বিচারপতির ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে আমেরিকা সফর করেন তিনি। চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় বিচারকদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পরিচালক পদে পদায়ন পান। কিছুদিনের জন্য আশফাকুর রহমানকে সিলেটের জেলা জজ হিসেবে পাঠানো হলেও তিনি আবার ঢাকায় লিগ্যাল এইডের পরিচালক হিসাবে পদায়ন নিয়ে চলে আসেন। এবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের শীর্ষ পদটিও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সচিবের পাশাপাশি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও আওয়ামী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে রাজবাড়ীর জেলা জজ হন। সবশেষ আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এভাবে সুবিধাভোগীদের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেল-এ ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গৌরব অর্জন ও ধারণ করার বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নিজেদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হবে না। পেশাদারিত্ব যেন রাজনীতির আড়ালে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়- এমন কোনো কাজ বিএনপি অতীতে করেনি, বর্তমানেও করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তার মতে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও শক্তিশালী থাকে।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিবসটিকে শহীদ সেনা দিবস, সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে যুক্ত করা হলে তাদের মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয় বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সেনা সদস্যরা নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলে অনেক বিষয়ে উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ওই হত্যাযজ্ঞের দিনটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি বা করতে দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং সেনাবাহিনীর কিছু বিধিমালা সংস্কারসহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব এ বিষয়ে (পাশা) অবহিত করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে পাশা নামে একটি এনজিও দাবি করেছে যে তারা ১০ হাজার নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে। বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। যাচাইবাছাই করে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বলেন, এখন পর্যন্ত ওই এনজিওটির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও বাহিনী মোতায়েন কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে, কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটি খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টু মেক ইট পারফেক্ট। ভোটটা যাতে পারফেক্ট হয়, সেটা হচ্ছে আমাদের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভোট উৎসবমুখর হবে, সেখানে নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন। মানুষ পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে ভোট উৎসবে যোগ দেবে। আমি আশা করি, এই ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, পুলিশকে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্র, তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭শ বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। এই বডি ক্যামেরা কীভাবে কাজ করছে, আজকের মিটিংয়ে প্রথমেই রেন্ডমলি পাঁচটা জায়গায় প্রধান উপদেষ্টা যারা বডি ক্যামেরা বহন করছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপও এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। এই নির্বাচনে সুরক্ষা অ্যাপটা শুধু তারাই ব্যবহার করবেন, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে থাকবেন। কোনো নির্বাচন কেন্দ্রে বা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে যদি গণ্ডগোল-গোলযোগ হয়, কোনো সংঘর্ষ হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত বিভিন্ন সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে বার্তা চলে যাবে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে বার্তা চলে যাবে। সেন্ট্রালি নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা চলে যাবে। এর ফলে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ফোর্স তারা খুব দ্রুত ইন্টারভেন করতে পারবেন। খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। এটা হচ্ছে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের কাজ।
তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক ৫০ হাজার থাকবেন।
এসব পোস্টাল ব্যালটের ভোট কিভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে-সে বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ জানতে চেয়েছে বলেও অবগত করেন তিনি।
‘পাশা’ নামে যে পর্যবেক্ষক সংস্থাটির ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান শফিকুল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন-আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনের ভোটটা সুষ্ঠু ও সঠিক যেন হয়। নির্বাচনের সময়টা আসলে একটা কঠিন সময় পার করা হচ্ছে জানান প্রেস সচিব।
আগমী ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জানা যায়- নিজের বাসার একটি কক্ষকে সংস্থার কার্যালয় বানিয়ে এক ব্যক্তিনির্ভর সংস্থা ‘পাশা’ একাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য আবেদন করে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামের জনৈক ব্যক্তি।
সংস্থার লোকবল বলতে তিনি একজনই। এ নিয়ে একটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া পাশা নামক ওই এনজিওর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও নানা মহলে অভিযোগ উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন