খুঁজুন

অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ

শীঘ্রই আসছে নতুন কমিটি, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর শীর্ষ পদে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শীঘ্রই আসছে নতুন কমিটি, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর শীর্ষ পদে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোনো কোনো কমিটিতে মেয়াদ শেষ হয়েছে ১০ বছরেরও বেশি সময়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। সঙ্গত কারণেই কিছু অঙ্গ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ ১০ বছর অতিক্রম করেছে। আবার কোনো কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি, চলছে সুপার ফাইভ দিয়ে। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়েও আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল ফিতরের পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপি কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেন। সূত্র বলছে, ঈদের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করার কথা বলেছেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল- এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে অনেক যোগ্য নেতৃত্ব যায়গা পাচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে মনমালিন্য।

★যুবদল:
বিএনপির প্রধান যুব অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সঙ্গত কারণেই তিনি দলীয় পদে থাকতে পারবেন না।

★স্বেচ্ছাসেবক দল:
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, জাসাস, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান-দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব আহসান বর্তমানে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

★কৃষক দল:
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। শহিদুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য।

★ছাত্রদল:
২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোয় সংগঠনের ভরাডুবি স্পষ্ট। ফলে সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে অনেক আগেই।

★মহিলা দল:
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে।

★মুক্তিযোদ্ধা দল:
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা দলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিন বছর পরপর সংগঠনটির নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়েও নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং পরস্পরের দূরত্ব বেড়েছে।

★শ্রমিক দল:
২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।

★মৎস্যজীবী দল:
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মারা যান রফিকুল ইসলাম। পরে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি।

আবদুর রহিম একটি শীর্ষ গণমাধ্যমে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসাবে মৎস্যজীবী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছে। ২ জন নিহত হওয়া ছাড়াও এই সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত এবং হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের পর প্রায় দেড় বছর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি না থাকা সত্ত্বেও মৎস্যজীবী দল অবিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচিতে সফলভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। এ পর্যায়ে মৎস্যজীবী দলের সারা দেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করতে এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন সময়ের দাবি।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়।

★জাসাস:
এদিকে বিভিন্ন দিবস উদযাপনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্য সচিব করে ২০২১ সালের নভেম্বরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও ওই কমিটি প্রায় ৫ বছর পার করছে।

সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে যার যার মতো করে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন তারা।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় একদিকে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক পদবঞ্চিত কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা গেলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তবে আসন্ন কমিটি গুলোতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলে সামনের রাজনীতি আরও কষ্টের হবে বলে মত সকলের।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু