খুঁজুন

দলের গ্রীণ সিগনালের অপেক্ষায় অনেকে

প্রশাসকরাই হচ্ছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রশাসকরাই হচ্ছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর নিয়োগপ্রাপ্ত দলীয় প্রশাসকদেরকেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করতে পারেন বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অর্পন করা হয়েছে মাঠ গোছানোর দায়িত্ব।

সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটিসহ ১১ সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। বড় কোনো ব্যত্যয় না হলে কিংবা দুর্নীত-বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে না পড়লে এসব প্রশাসকরাই হতে পারেন দলের মেয়র প্রার্থী। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া।

এরআগে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে হবে, জাতীয় সংসদে ফয়সালা হবে সেই সিদ্ধান্তের। তবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় এক থেকে দেড় বছরের আগে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমনটাই জানিয়েছেন সরকারের একাধিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করতে চায় সরকার।

দীর্ঘ দুই দশকের খরা কাটিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা নেওয়ার পর জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাই আপাতত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সেভাবে দৃষ্টি নেই তাদের। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করতে চায় সরকার। তারপর তৃণমূলে সংগঠন মজবুত করেই স্থানীয় সরকার ভোটে নজর দিতে চায় বিএনপি।

জাতীয় নির্বাচনে দলটির স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে অনেক জায়গায় তৃণমূল কার্যত রয়েছে বিভক্ত অবস্থায়। সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম ঈদুল আজহার পর শুরু করতে পারে বিএনপি। ইতোমধ্যে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকার যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখার দিকে এগোবে, বিএনপিও তখন সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন নিয়ে মনোযোগ দেবে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ১৯ আগস্ট দেশের ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে বসানো হয় প্রশাসক। বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় ১১ সিটিতে।

তবে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় তৈরি হয় সমালোচনা। তখন সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন বলেই তাদের দেওয়া হয়েছে নিয়োগ। তাছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও থাকে জনগণের।

প্রথমে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ ৬ সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম। এক সময় তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক। এছাড়া বিএনপির বর্ষীয়ান এই নেতা দায়িত্ব পালন করেছেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবেও। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি।

আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘মেয়র নির্বাচন করার জন্যই তো এসেছি এখানে (প্রশাসক)। অতীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা ছাড়া আমি দীর্ঘদিন রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে যুক্ত। আশা করছি, নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে পারব।’

‘তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যানের ওপর, তিনি মনোনয়ন দিলে করব নির্বাচন। এখন স্বাভাবিকভাবেই কাজ-কর্ম করছি, যাতে জনগণ বুঝতে পারে যে— আমাকে দায়িত্ব দিলে তাদের জন্য করতে পারব কাজ-কর্ম। এটা পরীক্ষার আগে পরীক্ষা হয়ে যাবে।’

দক্ষিণ সিটির এ প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকারের যে সমস্ত কমিটমেন্ট-দায়িত্ব আছে, সেগুলো তো সরকারকে পালন করতেই হবে। আমাদের দলীয় সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। জনগণের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট-ডেডিকেশন থাকবে, অন্য কারো তো সেটি থাকবে না। সেটি আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি এবং ইতোমধ্যে অনেকাংশে করেছিও। আমি বিশ্বাস করি, পুরোপুরি না হলেও জনগণও পেতে শুরু করেছে নাগরিক সুবিধা। জনগণের যেসব চাওয়া-পাওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেষ্টা করব আমরা সেগুলো ফুলফিল করার।’

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিল্টন। তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমানের কাছে হেরে যান তিনি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেছেন, ‘সরকার আমাকে কাজ করতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক করে পাঠিয়েছে। আমি কাজ করছি নাগরিক সেবা নিশ্চিতে। আগামীতে দল যদি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন করব আমি। আর দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তার পক্ষেই করব কাজ। দলই এ ব্যাপারে নেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমি মনোনয়ন চাইতে পারি, বলতে পারি— কিন্তু দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

প্রশাসক আব্দুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম মিল্টনের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান বিএনপির আরও অনেকে। তারা অপেক্ষায় রয়েছেন দলের গ্রিন সিগন্যালের। তবে বর্তমান সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের পাল্লা কিছুটা ভারি, এ-কথা বলাই যায়।

★ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আরও যারা আলোচনায়:

দক্ষিণে মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরও আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, সাবেক ডেপুটি মেয়র কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।

বিএনপির ত্যাগী নেতাদের একজন সোহেল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলা ৪৫০টি করা হয় তার বিরুদ্ধে। সোহেল বলেছেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই করবেন নির্বাচন।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন ইশরাক। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দক্ষিণ সিটি থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচন করেন বিএনপির এই নেতা।

★ঢাকা উত্তর সিটিতে আলোচনায় যারা:

ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ কাইয়ূম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) এবিএমএ রাজ্জাক, আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ।

তাবিথ আউয়াল ২০২০ সালের উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী ছিলেন। এমএ কাইয়ূম ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। মোস্তফা জামান ও কফিল উদ্দিন আহমেদ বিগত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে ছিলেন বিএনপির অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী।

দল মনোনয়ন দিলে আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি থেকে ভোট করতে চান জামান। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দল যদি ঢাকা মহানগর উত্তরকে সাজাতে চায় এবং আমার মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায়; আর এ কাজে দল যদি আমাকে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব মেয়র পদে।’

★খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। খুলনা-২ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য এবার একই আসন থেকে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

★সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এবারের নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

★নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে তিনি হেরে গিয়েছিলেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোননয়ন চেয়েও পাননি।

★গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি গাজীপুর-২ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

★৬ সিটির ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মার্চ বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লাতেও বিএনপি নেতাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় সরকার। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন বিলকিস জাহান শিরীন। তিনি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। মাহফুজুর রহমান দায়িত্ব পান রাজশাহী সিটির। তিনি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলে আসছেন।

★ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রুকুনোজ্জামান রোকন হন সেখানকার নগর সংস্থার প্রশাসক। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন মাহফুজ উন নবী চৌধুরী; যিনি রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা হন সেখানকার সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু