গুলিস্তানের বাসস্ট্যান্ড যাবে ইকুরিয়া
যানজট ভোগান্তি নিরসনে রাজধানীর ৪ বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের উদ্যোগ: ইকুরিয়া হাউজিং পরিদর্শন
রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অসহনীয় ভোগান্তির যানজট, পরিবহন বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সম্ভাবনা যাচাইয়ে ঢাকার ইকুরিয়া হাউজিং এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
একটি সূত্র জানায়, নতুন বাস টার্মিনালের জন্য কেরানীগঞ্জের বাঘৈর তেগরিয়া, তেগরিয়া আন্ডারপাস সংলগ্ন এলাকা এবং ইকুরিয়া হাসনাবাদ এই তিনটি স্থান পরিদর্শন করা হয়। সম্ভাব্যতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়ক সংযোগ, যান চলাচলের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ইকুরিয়া হাসনাবাদ এলাকাকে সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়া পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর অত্যন্ত ব্যস্ত এই ৪টি বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লা ও আন্তজেলা বাস চলাচল করে। ফলে যানজট, যাত্রীচাপ, অবৈধ পার্কিং এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বিকল্প স্থানে আধুনিক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে ইকুরিয়া ঢাকা হাউজিং এলাকার ভূমির উপযোগিতা, সড়ক যোগাযোগ, যানবাহনের প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ এবং আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অবকাঠামোগত সুবিধা ও বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো নিয়েও মতবিনিময় করেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর মানুষের ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সে লক্ষ্যেই সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
পরিদর্শনে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, কারিগরি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সম্ভাব্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বড় বাস টার্মিনালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে স্থানান্তর করা গেলে শুধু যানজটই নয়, বরং পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল এবং জনভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সেই বিবেচনায় ইকুরিয়া ঢাকা হাউজিং এলাকা পরিদর্শনকে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





আপনার মতামত লিখুন