মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, অস্ত্রসহ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় নিজ বাসার সামনে অতর্কিত এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর স্থানীয় জনতার ধাওয়ায় অস্ত্রসহ এক হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপর হামলাকারীকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় সাইফুল ইসলাম সিজুর নিজস্ব বাসা। তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় ‘এসটি’ নামে একটি ইন্টারনেট (নেট) ব্যবসা পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তিন থেকে চারজনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলাকারীদের ছোড়া গুলি তার দুই পা ও কোমরে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম সিজুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। একই সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শান্ত ভূঁইয়া (২৪) নামে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আহতের শ্যালক সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, কী কারণে তার দুলাভাইয়ের ওপর এমন হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না। হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলামের দুই পা ও কোমরে গুলির আঘাত রয়েছে। তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এদিকে মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক শান্ত ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হামলার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান গুলির ঘটনা ও একজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্বের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় দু’জন সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে আটক করা হলেও অপরজন এখনও পলাতক এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
থানার ওসি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলামের শরীরে বুধবার অস্ত্রোপচার করা হবে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং পলাতক হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





আপনার মতামত লিখুন