ছাত্রীর সাথে শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো: ফজলুল রহমান(৫২) কে পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তবে ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করেনি।
বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর থেকে বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।পরে তোপের মুখে ওই শিক্ষককে পাংশা মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো: ফজলুল রহমান দীর্ঘদিন ধরে কোচিং বাণিজ্যের আড়ালে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বুধবার সকালে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে কোচিং সেন্টারে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এসময় ঘটনাটি এক ছাত্র দেখে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর জানালে দুপুরের মধ্যে উত্তাল হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। বিদ্যালয়ের প্রধান গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে উচ্ছুক জনতা। পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে পুলিশ পাহাড়ায় ওই শিক্ষককে থানায় নেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনা স্থল ত্যাগ করলে ওই শিক্ষককের ব্যবহিত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় উচ্ছুক জনতা।
দশম শ্রেণির ছাত্র বাঁধন মন্ডল বলেন, ফজলু স্যার মৌরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয় টা কে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। এই শিক্ষক কোচিং সেন্টারের আড়ালে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।তার মতো শিক্ষকের এই বিদ্যালয়ে থাকার দরকার নেই, তাই আমরা তার পদত্যাগের দাবি করছি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ: খালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক মো: ফজলুল রহমান এর বিরুদ্ধে কোচিং সেন্টারের আড়ালে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপে অভিযোগ শুনেছি। দুপুরে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ কে খবর দেয়।এর মধ্যে বিক্ষোভ কারীরা বিদ্যালয়ের প্রধান গেট, বিদ্যালয়ের জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে। পুলিশ এসে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। বিষয়টি তাকে মুঠোফোনে জানিয়েছি।আমরা একটি মিটিং এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবো।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের করছে ছাত্রছাত্রী। অভিভাবক ও এলাকাবাসী এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনা স্থলে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন