খুঁজুন

শিক্ষাখাতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

৪ প্রশাসন ক্যাডার সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ
৪ প্রশাসন ক্যাডার সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সরকারের তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ (ইউএনও) ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন মামলাটি করেছেন। তবে এখনো তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি।

মামলার আসামিরা হলেন:
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার, নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত এবং কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান। তারা সবাই আইভিএ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

অন্য আসামিরা হলেন:
‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস)’ এর নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার, ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’র নির্বাহী পরিচালক গাউসুল আজম ও সাবেক উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোখছেদ আলী; কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সাবেক সদস্য সচিব কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য হাসান আলী, নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য নীলিমা জাহান, গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার আলী, কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য অরুণ চন্দ্র রায় ও কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য তৌহিদা মোহতামিম।

যে কারণে দায়ের করা হয় মামলাটি:

জানা যায়, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে দুদকে পেয়েছে মাত্র ১১ জন। অথচ এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এর মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮-১৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ও বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই না করে, প্রকৃত ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী না নিয়ে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখানো হয়। তাদের নিয়ে ৫৫টি ভুয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা দেখানো হয়। ভুয়া শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়।

কত টাকা আত্মসাৎ ?

প্রকল্পের চুক্তিপত্রের ৫ম অ্যাপেনডিক্স অনুসারে, ৫৫ টি শিক্ষণকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ প্রত্যেক শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা, অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচাদি প্রতিটির জন্য ২২ হাজার ৬৯০ টাকা হারে মোট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষক ও অন্যান্যদের ট্রেনিংয়ের খরচাদি প্রতিটির জন্য ৬২ হাজার ৩৯২ টাকা হারে মোট ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৬০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পোশাকের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা হারে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং স্কুল ব্যাগের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা খরচাদি ও অন্যান্য খরচসহ ওই প্রকল্পের মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এর সঙ্গে বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের (এসডিএস) একটি চুক্তিপত্র হয়। যার পঞ্চম অ্যাপেনডিক্স অনুযায়ী, কালাই উপজেলার ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্রে ২ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় খরচাদির জন্য ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও চুক্তির আলোকে সব কাজ সম্পন্ন করবে বলে চুক্তিতে বলা হয়।

তবে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস) তাদের কৌশলগত প্রয়োজনে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সম্পন্ন স্থানীয় একটি এনজিও ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’কে সহযোগী সংস্থা হিসেবে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। তাদেরকে ওই প্রকল্পের কালাই উপজেলার ৭০টি শিখনকেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্নের দায়িত্ব দেয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামি আয়েশা আক্তার, গাউসুল আজম ও মোখছেদ আলী ১ হাজার ৬৫৭ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলেও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ওই শিক্ষার্থীদের নাম জরিপের তালিকায় দেখান। তারা ৫৫টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেননি।

প্রথম ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, টুকটুক তালুকদার, ডা. মো. হাসান আলী, নীলিমা জাহান ও মো. আনোয়ার আলী শুরু থেকেই দায়িত্বরত থেকে বিধিমালা অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) স্থাপনের তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তারা তা করেননি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জরিপ তালিকায় ক্যাম্পেইন কমিটির সভাপতি অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়ন/এনওসি থাকা বাধ্যতামূলক থাকার পরও সভাপতির প্রত্যয়ন ব্যতীত-ই শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন ও ভ্যালিডেশন কার্যক্রমে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জরিপের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দুদক জানায়, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন, অথচ রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে, কালাই উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মাত্র ১১ জন পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পিইডিপি-৪ এর সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ আউট অব চিলড্রেন এডুকেশন কার্যক্রমের শিখন কেন্দ্র মাঠ পর্যায়ে ভ্যালিডেশন ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিবেদন ছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো বিলের অর্থ ছাড় অনুমোদন করেন না। অথচ তিনিসহ তাদের কমিটি এসব বিষয় যাচাই বাছাই ছাড়াই সমস্ত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এছাড়াও, পরবর্তী ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির জান্নাত আরা তিথি, আবুল হায়াত, শামিমা আক্তার জাহান, অরুণ চন্দ্র রায়, তৌহিদা মোহতামিম বিধিমালা অনুযায়ী, উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তা ওই কমিটি করেনি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তারা।

তিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও এক ইউএনও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর টুকটুক তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে কোনো টাকা তো যায়নি। উপজেলায় মনিটরিং টিমে ছিলাম শুধু। দুদক তো আমাকে আসামি করার কথা নয়। সাক্ষী করেছে কিনা, ভালো করে দেখুন।’

শামিমা আক্তার জাহান গণমাধ্যমে বলেন, ‘কালাই উপজেলায় আমি যোগ দেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর কালাইতে যোগ দিয়েছিলাম। আগের ইউএনও স্যারের রিপোর্ট অনুযায়ী আমি শুধু প্রকল্প সমাপনী প্রত্যয়ন প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছি। দুদক আমার কোনো বক্তব্য নেয়নি।’

এবিষয়ে জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘দুদকের মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দুদক বলতে পারবে কেন আমাকে আসামি করছে।’

তবে অপর আসামি আবুল হায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু