নারী শিক্ষায় বিশ্ব স্বীকৃতি
প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুস পেয়েছেন ‘উইমেন চেঞ্জিং দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডস’
বাংলাদেশের শিক্ষা অঙ্গনে গর্বের নতুন সংযোজন ঘটালেন মারিয়াম নূর ইউনুস। বিশ্বখ্যাত ‘উইমেন চেঞ্জিং দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এ তিনি এশিয়া অঞ্চল থেকে নারী শিক্ষা বিভাগে সিলভার অ্যাওয়ার্ড এবং লিডার অব দ্য ইয়ার (এশিয়া–বাংলাদেশ) বিভাগে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
ঢাকার নিউ ইস্কাটনে অবস্থিত নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুস এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আয়োজক সূত্র জানায়, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, নেতৃত্ব, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য, উদ্ভাবন ও অ্যাডভোকেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদের সম্মান জানাতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। নৈতিকতা, সামাজিক প্রভাব ও সেবাভিত্তিক নেতৃত্ব- এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এই স্বীকৃতিতে। এশিয়া অঞ্চল থেকে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মারিনেজ ভিয়া, আর নারী শিক্ষা ও নেতৃত্বে অসামান্য ভূমিকার জন্য মারিয়াম নূর ইউনুস অর্জন করেন সিলভার ও ব্রোঞ্জ।
প্রায় তিন দশকের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মারিয়াম নূর ইউনুস একজন দক্ষ স্কুল স্টার্ট-আপ বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম ডিজাইনার, ইংরেজি শিক্ষক ও একাডেমিক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে সুপরিচিত। স্কুলের ধারণাগত পর্যায় থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও আধুনিক রূপান্তরে তার নেতৃত্ব বারবার সাফল্যের সাক্ষ্য দিয়েছে।
তার উল্লেখযোগ্য পেশাগত অবদানের মধ্যে রয়েছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংলিশ মিডিয়াম সেকশন গড়ে তোলা, স্ট্রাইড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠা, যা পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেস্ট স্কুল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তিনি উন্নয়ন ও রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একটি নবযাত্রা শুরু করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে তিনি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিবেশ, শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন এবং শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি তৈরিতে কাজ করছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো তার নিজস্বভাবে তৈরি কারিকুলাম কাঠামো, যেখানে ভ্যালু-বিল্ডিং ও স্কিল-বিল্ডিং সপ্তাহ অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের চরিত্র, দক্ষতা ও বৈশ্বিক নাগরিকত্ব বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবেও সক্রিয়। তার প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ এরিসমা স্কুল সলিউশনস-এর মাধ্যমে তিনি স্কুল লিডারদের কৌশলগত সহায়তা এবং শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান করে যাচ্ছেন।
এই সম্মাননা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় মারিয়াম নূর ইউনুস বলেন,“এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দেয়- প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সেবার প্রতিটি মুহূর্তই অর্থবহ। এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়; এটি সেই সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা নেতাদের, যারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং আমার সঙ্গে পথচলা করেছেন।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি তার প্রথম স্বীকৃতি নয়। ২০২৩ সালে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট তাকে বিশ্বের শীর্ষ ৬০ জন শিক্ষকের একজন হিসেবে নির্বাচন করে। এছাড়াও তিনি পেয়েছেন গ্লোবাল টিচার অ্যাওয়ার্ড (AKS), আইকনিক ইংলিশ টিচার অ্যাওয়ার্ড, ইনোভেশন ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড (ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাওয়ার্ডস, ইউএই) এবং ওম্যান অব ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড (যুক্তরাজ্য)।







আপনার মতামত লিখুন