খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

স্বামী প্রবাসে-স্ত্রী পরকীয়ায় ব্যস্ত, অনৈতিক-অবৈধ সম্পর্কের রামরাজত্ব

মাদারীপুরে একবছরে ৮ হাজার বিয়েতে ৫,৫০০ ডিভোর্স, কেন এত ভাঙন ?

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে একবছরে ৮ হাজার বিয়েতে ৫,৫০০ ডিভোর্স, কেন এত ভাঙন ?

প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিতি মাদারীপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে পরকীয়া সম্পর্ক, স্বামী প্রবাসে থাকায় স্ত্রীর অবৈধ সুযোগ নেয়া, দাম্পত্যে বোঝাপড়ার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং দায়িত্বহীনতা।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাদারীপুরে মোট বিয়ে হয়েছে ৮ হাজার ১০৬টি, বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৫ হাজার ৫২১টি। অর্থাৎ মোট বিয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশের সমান বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি-২০২৪ সালে ৪৬.৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫৪.৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৪৩.৮ শতাংশ ছিল।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলায় বিয়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৬টি এবং বিচ্ছেদ ২ হাজার ১৭৭টি- যেখানে বিয়ে ও বিচ্ছেদের ব্যবধান মাত্র ৪৯টি। শিবচরে বিয়ে ২ হাজার ৪৩১টি, বিচ্ছেদ ১ হাজার ২৩৭টি; কালকিনিতে বিয়ে ১ হাজার ৮২৮টি, বিচ্ছেদ ৯২১টি; আর রাজৈরে বিয়ে ১ হাজার ৬২১টি, বিচ্ছেদ ১ হাজার ৯৬টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসে অবস্থানের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়ার মতো ঘটনা ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়ায়।

দুঃখ প্রকাশ একজন প্রবাসী বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীর অন্য সম্পর্কে জড়িত থাকার প্রমাণ পান এবং পরে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, বিয়ের মাত্র ১৪ মাসের মাথায় তার সংসার ভেঙে যায়। স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর দাম্পত্য সম্পর্ক আর টেকেনি।

আরেক প্রবাসী জানান, জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়ে তিনি নিয়মিত সংসারে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু কয়েক বছর পর জানতে পারেন, তার স্ত্রী অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে সন্তানদের নিয়েই তিনি জীবনযাপন করছেন।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের মতে, বর্তমানে বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ পরকীয়া। এছাড়া দীর্ঘ প্রবাস জীবন, দাম্পত্য কলহ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসও বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রেই সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি মিটিয়ে না নিয়ে দম্পতিরা বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন।

আরেক বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওলানা জাহিদ আলম বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিচ্ছেদের হার আরও বাড়বে। তিনি পারিবারিকভাবে সম্পন্ন বিয়েতে বিচ্ছেদের হার তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করেন এবং দাম্পত্য কলহে দুই পরিবারের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন।

মাদারীপুর জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান সোহেল গণমাধ্যমে বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ আইনগতভাবে স্বীকৃত অধিকার হলেও এর হার বৃদ্ধি সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বিরোধ চরমে পৌঁছানোর আগেই মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সরদার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক সহায়তা ও আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ম্যারেজ ও ডিভোর্স কনসালটেন্ট আলমগীর হোসেন বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে এবং বেকারত্বও বিচ্ছেদের বড় কারণ। মানসিক ও আর্থিক অপ্রস্তুত অবস্থায় দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছেদে গড়ায়।

জেলা রেজিস্ট্রার আমির হামজা বলেন, চলতি বছরে বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি পরকীয়াকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী পরিবারে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, দেশে অবস্থানরত স্ত্রীদের শালীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখা, পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। সেইসাথে প্রয়োজন হলে অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্ক দমনে আইনের ব্যবহারও করতে হবে বলে মত সকলের।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

চলতি অর্থ বছরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের আওতায় এডিবি ও রাজস্ব খাতের আর্থিক অনুদানের অংশ হিসেবে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসকের কক্ষে উক্ত চেক বিতরণ করা হয়। চেক বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুবিধাভোগী মসজিদ-মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ।

এসময় চেক গ্রহন করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের নুর হুদা জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ। চেক বুঝে পেয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

কুড়িগ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসা উন্নয়নে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার
কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি।

ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখান করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ অংশীজনরা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর ওই প্রস্তাব দেয় পিডিবি।

এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের ভর্তুকির দেওয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এখন পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সা। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিক্রিতে প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭৭ ভাগ বাড়ানো হলে ভর্তুকি থাকবে না।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বক্তব্য পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

প্রোগ্রামে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে তার কোনও খেয়াল নেই।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বযয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ একথা জানিয়েছেন শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১১ মে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের যে সব অংশে কাঁটাতার নেই, সেই অংশের জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন।” অবশেষে সেই কথামতোই কাজ করলেন শুভেন্দু।

এ বিষয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটার। ২২০০ কিমি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। এরমধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিমি কাঁটাতার অসম্পূর্ণ।”

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পূর্ববর্তী সরকার চাইলেই সেই জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে দিতে পারত। কিন্তু তারা তোষণের রাজনীতি করেছিল বলে তা দেয়নি।”

বুধবার প্রথম পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “এই দীর্ঘ এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটি সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ কর্মকর্তারা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।”

দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল, যা এবার বিজেপি’র নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্য ওয়াল লিখেছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করতে পারছে এবং ভোটের বিনিময়ে তারা সেখানে থেকে যেতে পারছে।

গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

তার ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে কেউ কোনো প্রতিরক্ষা স্থাপনা করতে পারবে না। ওই ১৫০ কাজের ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে একে অপরের সম্মতি নিতে হবে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পশ্চিমবঙ্গকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা তা কার্যকর করলাম।

শুভেন্দু আরও জানান, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। তারপর তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়, সহযোগী স্ত্রী: পুলিশ বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত