চাকরি দেওয়ার নামে ভয়াবহ জালিয়াতি
প্রতারণার আরেক নাম ‘তাহমিনা ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’
অসহায় বেকারদের ইমোশনকে পুঁজি করে ভয়ংকর জালিয়াতি ও প্রতারণার আরেক নাম “তাহমিনা ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড”। অভিযোগ এসেছে- এখানে চাকরি দেয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। অথচ চাকরির নামে লবডঙ্কা।
কথিত চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাহমিনা ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এ চলে নানামুখী জালিয়াতি ও অবৈধ চাকরি বাণিজ্য। সেই সাথে চলে গ্রাহকদের থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার রমরমা বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামে আমাদের অনুসন্ধানী টিম। যেখানে মেলে চাকরির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, “এখানে যারা চাকরির জন্য আসে, তাদেরকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয় একটি সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, তারা মানুষকে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে মিথ্যা কথা বলে পাঠিয়ে হয়রানি করে। বিশেষ করে রাকিব হাসান তন্ময় ও জুনায়েদ হাসান নামে দুইটা প্রতারক আছে- যারা মানুষকে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন চাকরীর নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।”
মূলত এই তাহমিনা ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড গরীব মানুষের জন্য এক মরণফাঁদ। তাদের জালিয়াতি ও প্রতারণার একাধিক অডিও রেকর্ড এসেছে আমাদের অনুসন্ধানী টিমের হাতে। কথিত ওই হাউজে রাকিব ও জুনায়েদ চাকরিপ্রত্যাশী গরীব মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চাকরির নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। যে মানুষগুলো তাদেরকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে তারা এখন আইনের আশ্রয় নিবে বলে জানিয়েছে।
এই কথিত তাহমিনা ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড প্রতিষ্ঠানকটি রাজধানীর অদূরে ধামরাই ধুলিভিটায় অবস্থিত। আরেকটি অফিস যাত্রাবাড়ীতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কথিত সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানটি মানুষকে বলে যে তাদের অনেকগুলো শাখা অফিস আছে। সেই সূত্র অনুযায়ী প্রতারক রাকিব হাসান তন্ময় ও জুনায়েদ হাসান নামে দুই যুবক বর্তমানে নবীনগর পল্লীবিদ্যুৎ নামক যায়গায় অফিস নিয়ে হাজারো অসহায় মানুষকে প্রতারণার শিকার করছে। আমরা চাই অতি দ্রুত যারা এসব প্রতারণার সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তাছাড়া এমন সব প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, এরা নাম দিয়েছে সিকিউরিটি হাউজ। অথচ এদের কাজ সবই অনৈতিক। কারণ সিকিউরিটি সার্ভিসের বাইরেও তাদের বিভিন্ন সরকারি ও প্রাইভেট চাকরির লাইন আছে বলে আমাদের অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। কিছু প্রাইভেট ব্যাংক ও সরকারি চাকরির লাইন আছে বলে আমাদের প্রলোভন দেখায় তারা। আমরা লোভে পা দিয়ে ভুল করেছি। তবে আমাদের মতো আর কেউ যেন এই ফাঁদে পা না দেয়। সেজন্য আপনাদের মাধ্যমে এই রাকিব ও জুনায়েদের বিচার চাই আমরা।







আপনার মতামত লিখুন